Friday, 4 November 2022
উজ্জয়িনী--অঞ্জলি দেনন্দী, মম
জড়োয়ার ঝুমকো--কবিরুল (রঞ্জিত মল্লিক)
দিন যাপন--রবিরাম হালদার
Thursday, 3 November 2022
নিঃস্বার্থ--আরাধনা চট্টোপাধ্যায়
নিঃস্বার্থ--
আরাধনা চট্টোপাধ্যায়
"এই যাঃ, আবার আজকেও আমার দোকানে ঢুকে বিস্কুট নিয়ে গেলো ওই শয়তান পাগলীটা ! এই কে আছিস, ধর্ ধর্ ,ধরতো ওটাকে!"
ভোলার চায়ের দোকানে রাতে আড্ডা দিতে আসা ছেলে গুলো আজকেও তাড়া করে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিলো পাগলীটা কে। গত দুমাস ধরে মাঝে মাঝেই এই দৃশ্য দেখা যায় বলাগড় স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে। পাগলীটা এখানেই থাকে। তার পাগলামি বলতে শুধু নিজের সাথে বিড়বিড় করে, মাঝে মাঝে হাসে, অনেক সময় শোনা যায় তার বুক ফাটা হাহাকার ও সেইসাথে কান্না। যেন হারিয়ে ফেলা কাউকে সে খোঁজে। আজ খিদে পেয়েছিলো খুব, জ্বালা সহ্য করতে না পেরে চুরি করেছিলো একটা বিস্কুটের প্যাকেট। তাতেই এত কান্ড!এই জ্বালায় অতিষ্ঠ ভোলা পরদিন সকালেই গেলো নতুন স্টেশন মাষ্টারের অফিসে। "যে করেই হোক এই পাগলীটাকে স্টেশন চত্বর থেকে তাড়াতেই হবে। কতদিন আর সহ্য করা যায়? এভাবে কী আর ব্যবসা টেকে!! "
বলাগড় স্টেশন এর নতুন স্টেশন মাষ্টার আনন্দ। বছর পঁচিশ এর যুবক। দুমাস হয় এখানে বদলি হয়ে এসেছে। কলকাতার ধনী পরিবারের একমাত্র সন্তান সে। একা একা অফিস ঘরে বসে মনে পড়ছে আসার সময় মায়ের বলা কথা গুলো, " দেখ বাবু, পুরোনো সব কথা ভুলে যা, তুই আমাদের একমাত্র সম্বল, কত কষ্ট করে বড় করেছি তোকে,নিজের পায়ে দাঁড়া, রোজগার কর, পরিবারে মন দে "। সেই সাথে আরও অনেক কথাই মনে পড়ছিলো আনন্দের, ঠিক এমন সময় ভোলা এসে ঢুকলো তার অভিযোগের ঝুলি নিয়ে। সমস্ত কিছু শুনে আনন্দ বলে, "ঠিক আছে ঠিক আছে, তুমি এখন যাও, আজ থেকে আমি নিজে রাতে স্টেশন চত্বর তদারকি করবো তোমার দোকানে আর কিছু হবে না, চিন্তা নেই। "
সেদিন ও তার পর তিনদিন পাগলীটাকে স্টেশন চত্বরে দেখা গেলো না। ভোলার দোকানে চুরি গেল না কোন বিস্কুটের প্যাকেট। পাঁচ দিনের দিন অনেক রাত্রে হঠাৎ আনন্দ শুনতে পায় বেশ কিছুটা দূর থেকে চাপা চিৎকার ও গোঙানির শব্দ ভেসে আসছে। দেরি না করে আনন্দ বেরিয়ে পড়ল আওয়াজের উৎস সন্ধানে। সাথে নিলো বড় সার্চলাইট টা। কিছু দূর গিয়ে হঠাৎ মনে পড়লেো "সামনেই একটা বেআইনি মদের ঠেক আছে, কিছু দিন আগে পুলিশ এসেছিল, জায়গা টা ভালো না , আওয়াজ টা আবার ওখান থেকে আসছে না তো!! " কোন এক অজানা আকর্ষনে আনন্দ এগিয়ে চললো সেদিকে, যেন অন্তর্যামী চান সে একবার অন্তত জয় করুক তার ভয় কে, লাভ করুক জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা।
সেইখানে এসে আনন্দ দেখলো কিছুটা দূরে কয়েক জন মদ্যপ যুবক ঘিরে রেখেছে একজনকে। পুরুষ না মহিলা অন্ধকারে দুর থেকে ঠিক বোঝা গেল না। সার্চলাইটের আলো ফেলে আনন্দ চিৎকার করলো এই কে? কে ওখানে! কি হচ্ছে ওখানে? আনন্দের চিৎকার শুনে আর সার্চলাইটের আলো দেখে ছেলে গুলো সবাই এদিক সেদিক পালিয়ে গেল। আনন্দ দৌড়ে এসে মাটিতে সার্চলাইটের আলো ফেললো, যা দেখলো তাতে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। ততক্ষণে এইসব চিৎকার শুনে আনন্দের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে ভোলা। হঠাৎ সে বলে উঠলো, "আরে স্যার, এই তো সেই পাগলীটা! ইস্! কী অবস্থাটাই না করেছে!! "
এখানে শুধুমাত্র আনন্দ জানে যে মৃতদেহ টি পড়ে আছে দুনিয়ার চোখে সে পাগলী হলেও তার কাছে সে তার তিতু ওরফে তিতিক্ষা। কালনায় বাড়ি। এক বান্ধবীর সূত্র ধরে ক্লাস টেন এ পড়ার সময় সম্পর্ক গড়ে ওঠে আনন্দের সাথে। গরিব গৃহশিক্ষকের মেয়ে তিতিক্ষা অন্ধের মতো ভালোবাসতে শুরু করে আনন্দ কে। আনন্দ বরাবরই একটু পরিবার মুখো। তার মা বাবার কথাই তার কাছে শেষ কথা।। আভিজাত্য ও রক্ষনশীল মনোভাবের কারণে তিতিক্ষা কে পছন্দ করতেন না আনন্দের পরিবার। কিন্তু তিতিক্ষা বিশ্বাস করতো যে আনন্দ ঠিক সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও তাকে গ্রহণ করবে। স্বপ্ন দেখতো আনন্দের পরিবার বরণ করে ঘরে তুলছে তাকে।
কিন্তু বিধির নির্মম আঘাতে আজ দুমাস হয় তাদের সম্পর্কটি আর নেই। এই আঘাত নিতে পারেনি তিতিক্ষা, তাই আজ সে স্টেশনের পাগলী। মা তো জন্ম দিয়েই চলে গেছে। বাবারও প্রান কেড়েছে হার্ট অ্যাটাক।
আনন্দের সামনে পড়ে আছে তিতু। নিথর নিস্পন্দ। তিতিক্ষার লেখা শেষ চিঠিটার কথা মনে পড়ছে আনন্দের, " তুমি যদি কোনদিন আমাকে ত্যাগ করো, সত্যি বলছি আমি পাগল হয়ে যাবো। তোমাকে ছাড়া আর কারও হতে পারবো না। অপেক্ষা করবো সারাজীবন, ভগবান চাইলে দেহ থেকে প্রানটা বেরোনোর সময় তুমি আমার পাশে থাকবে। *
এমন অনেক মেরুদণ্ড হীন আনন্দই রয়েছেন আমাদের সমাজে। কিন্তু ভগবান থাকেন এই তিতিক্ষা দেরই পাশে। এমন করেই জয়ী করেন তাদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
সমাপ্ত
ফেরা--রবীন বসু
ফেরা--
রবীন বসু
অনেক ঝগড়া মারামারি তাচ্ছিল্য কটুকথা আর চোখের জলের পর সমীর ও রূপসার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। আদালত বলে দিল, এক বছর আপনারা সেপারেশনে থাকবেন। তারপর যদি মনে করেন সম্ভব না একসাথে থাকা, তখন অ্যালিমনি ধার্য করে পার্মানেন্ট ডিভোর্স দেবে আদালত।
শেষ দেখা আলীপুর কোর্ট চত্বরে। তারপর রূপসা বাপের বাড়ির পথ ধরেছিল। যাবার সময় একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখেছিল অবশ্য। আর তাতেই সমীরের সমস্যা। তার মনে হল, তাড়াতাড়ি করে সে কী ভুল সিদ্ধান্ত নিল! ঘাড় ঘুরিয়ে যখন দেখছিল, ওর চোখে জল তো ছিল, তার সঙ্গে আর কী ছিল সেটা আজও বুঝে উঠতে পারেনি।
এখন এগারো মাস কেটে গেছে। না ফোন, না মেসেজ। হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটও হয়নি। অফিসের যে মেয়েটিকে জড়িয়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি, সেই ঈশিতা এখন বিয়ে করে হনিমুনে গেছে গোয়াতে। সমীর প্রথমে ভালোবাসা ভেবেছিল। কিন্তু না, প্রমোশনের জন্য সুপারিশ ফাইলে সই হয়ে যেতেই ঈশিতার প্রেম উধাও। ধাঁধাঁ খেয়ে গেল সে। সাথে হতাশা লজ্জা ঘিরে ধরল।
কিন্তু সাথে সাথে একটা কৌতূহল। রূপসা কি অর্ক নামে সেই ছেলেটার সঙ্গে এখন রিলেশনে আছে! ওরা কি সেই কাফেটাতে এখনও বসে! যোগাযোগের সব মাধ্যম তো ও বন্ধ করে দিয়েছে।
ওর এক বন্ধু আছে, তার নম্বর সম্ভবত ফোনে সেভ করা আছে। একবার ফোন করবে? সার্চে গিয়ে নম্বর বের করে ফোন করতে, ওপারে এনগেজড টোন পেল। ঘূর্ণি স্রোতের মতো আবর্ত সৃষ্টি হচ্ছে মনের মধ্যে। সমীর ভাবতে চেষ্টা করল, তাদের ফল্ট কোথায়? কেন তাদের সম্পর্কের এই অবনতি? যে অপবাদ সে ঈশিতাকে দিয়েছিল, সেই একই দোষ তো সেও করেছে। পরকীয়া। সে তো ঠকেছে, ঈশিতা?
এই সব ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফিরছিল। সেলফোনে আলো জ্বলে উঠল। ঈশিতার ফোন, কোথায় তুমি? তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এসো। আমি ফিরে এসেছি।
সমাপ্ত
পরিসমাপ্তি--শাবলু শাহাবউদ্দিন
পরিসমাপ্তি
শাবলু শাহাবউদ্দিন
ইদ্রিস প্রেম করে। এ কথা কে না জানে । আবাল বৃদ্ধ সবার মুখে মুখে ফিরছে । রইজের ছেলে ইদ্রিস পূর্বপাড়ার হালিম ব্যাপারির বেটিকে খুব ভালোবাসে । তারা রাতবেরাতে ফোনে কথা বলে। দেখা করে। আরো কত কী। আমাদের সমাজ তো বিবিসি । একটা ঘটনা ঘটলে তাকে প্রচার করে জনগণ থেকে জনমতে রূপান্তরিত করা তাদের কাজ।
যাইহোক ইদ্রিসের পরিবার এই প্রেম-প্রীতি কোন মতেই মেনে নিবে না। বিশেষ করে ইদ্রিসের মা। তার এক কথা । ছেলেকে কেটে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিবো । তবুও হালিম ব্যাপারির বেটিকে ঘরে তুলবো না । ছেলেকে অনেক বুঝ দিলো । তাতে কোন কাজ হলো না। নানির বাড়িতে পাঠিয়ে দিলো । তাতে আরো মুস্কিল হলো। রোজ রাতে নানির বাড়ি থেকে এসে প্রেমিকার সাথে দেখা করে আবার ভোর রাতে ফিরে যায় । এভাবে একদিন তো আটকিয়ে গেলো । এ কথা লোকে জানা জানি হয়ে গেলে মেয়ের বাপের সম্মান যাবে । তাই মেয়ের বাপ হালিম ব্যাপারি খুব সাবধানে ইদ্রিসের বাসায় খবর দিলো। ইদ্রিসের বড় ভাই এসে গোপনে ইদ্রিসকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেলো। লোকে বলে বাতাসেরও কান আছে । এ কথাও কয়েক দিন পরে মানুষের মুখে মুখে ফিরতে লাগলো । অবশেষে মেয়ের বাপ ছেলের বাড়িতে ঘটক পাঠালো । তাতেই ঘটলো আরো যত বিপত্তি । ইদ্রিসের মা এবার মেয়ের সন্ধান করতে লাগলো। ইদ্রিসের বিয়ে দিয়ে দিবে ।
ইদ্রিস ছুটে আসলো আমার কাছে । কাকা তুমি একটা কিছু করো।
আমি আর কী করবো? অবশেষে ইদ্রিসকে হুকুম দিলাম । বিয়ে করে ফ্যাল । বাকিটা আমি দেখবো । ভয়ের কিছুই নেই। পরিবারের কেউ যদি না মানে । তাতে কোন সমস্যা নেই। আমি আছি তোদের পাশে।
কথাটি কেমন করে যেন চলে গেলো ইদ্রিসের মায়ের কাছে । ইদ্রিসের মা আমাকে সাইজ করার জন্য চলে গেলো কবিরাজের কাছে । কবিরাজ টাকা নিয়ে বিভিন্ন গাছের কিছু বাকল চেঁছে ধরিয়ে দিলো ইদ্রিসের মায়ের হাতে। এই গাছের বাকলে কী আর হবে? সোজাসুজি আমার কাছে চলে আসলো। ইদ্রিসের মা আমার কাছে এসে হাতে পায়ে জড়িয়ে ধরলো । আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম । আমাকে কী করতে হবে?
ইদ্রিসের মা আমাকে বললো, তেমন কিছু না । আমার হাতের এই পুঁটলিটা গোরস্থানে গিয়ে পাশাপাশি নতুন দুইটি কবরের মাঝে পুঁতে রেখে আসতে হবে। ঠিক সন্ধ্যার পরে। এমন একটা নিষ্ঠুর কাজের দায়িত্ব আমার ঘাড়ে এসে পড়লো যা কোন জীবিত মানুষের পক্ষে করা কখনো সম্ভব না । অনেক শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে আমাকে ঠিক সন্ধ্যার সময় পাঠিয়ে দেওয়া হলো গোরস্থানের ভিতরে । আমি যা করার তাই করলাম । গোরস্থান থেকে বাড়িতে ফিরে এসে দেখি ইদ্রিস বাড়িতে নেই। এদিকে সেদিকে খবর পাঠানো হলো। কোন খোঁজ খবর পাওয়া গেলো না । ঠিক রাত এগারোটার সময় আমার ফোনে একটা কল এলো । কাকা বিয়ে করে ফেলছি। আমি হতবাক । সবকিছুর পরিসমাপ্তি ঘটে গেলো ।
বৃদ্ধাশ্রম--সমর আচার্য্য
বৃদ্ধাশ্রম--
সমর আচার্য্য
বছর পাঁচেক হলো স্বামী পরিতোষবাবু মারা গিয়েছেন l স্বামীর মৃত্যুতে বিজয়াদেবী মুষড়ে পড়লেও আস্তে আস্তে এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছেন l স্বামী ব্যবসা করতেন l মোটামুটি সচ্ছল অবস্থা l ছেলে অতনু এবং মেয়ে ঝর্নাকে ভালো মতো লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করেছেন l আজ তারা প্রতিষ্ঠিত l
পরিতোষবাবু বেঁচে থাকতেই ছেলে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে গিয়েছেন l মেয়ে কোলকাতায় থাকে l দুজনেই চাকরি করে l খুবই ব্যস্ত l
ছেলে অতনুও সরকারি বড় পদে কাজ করে l জেলা শহরেই পোস্টিং l তার একটা চার বছরের ছেলে l বিয়ের পর থেকেই শ্বাশুড়ি বৌমাতে খুব একটা বনিবনা নেই l
নাতি বাবাই ঠাকমা অন্ত প্রাণ l বেশ চলছিল l হঠাৎ একদিন বৌমা পারমিতা বলে, আপনি কিছুদিন কলকাতায় ঝর্ণার ওখানে থেকে আসলেও তো পারেন l কথাটা বিজয়া দেবীর ভালো লাগে নি l নীরব থেকেছে l পরের দিন সকালে অতনু বলে, মা আগামী পরশু আমরা কোলকাতায় যাবো l চলো একটু বেরিয়ে আসি l মায়ের মনে খটকা লাগলেও মেয়ের বাড়ি যাওয়া যাবে এই ভেবে বেশ আনন্দ পেলেন l
ঝর্ণার ওখানে আজ প্রায় সাত আটদিন হয়ে গেল l অতনু মাকে বলে, মা তুমি কয়েকদিন এখানে থেকে যাও, আমি না হয় পরে এসে নিয়ে যাবো l
কথাটা ঝর্ণার কানে গেল l সে বললো, কিন্তু আমরা তো বাইরে বেড়াতে যাবো l অনেক আগের প্রোগ্রাম l এখন তো আর মায়ের জন্য টিকিট পাওয়া যাবে না l
অগত্যা মাকে নিয়েই ওদের ফিরতে হলো l
কয়দিন পরে বৌমা বলে, মা আপনি যদি এই ছোট ঘরটাতে থাকেন তবে আমাদের একটু সুবিধা হয় l
মা সন্ধ্যায় একটু টিভি দেখেন l একদিন ছেলে বললো, মা, যখন বাবাইকে পড়াতে আসে টিভিটা একটু বন্ধ করে রেখো, না হলে বাবাইয়ের অসুবিধা হয় l
দিনে দিনে এমন নানা অসুবিধা আর অসুবিধা বিজয়াদেবী কে অতিষ্ঠ করে তুললো l মেয়েকে ফোনে সব কথা বললো l কিন্তু সে তেমন পাত্তা দিলো না l শুধু বলে, তোমার অসুবিধার কথা বুঝতে পারছি, কিন্তু কি করবো বলো, আমাদেরও তো মাত্র দুটো ঘর l তোমাকে কোথায় রাখবো l
বড় হতাশ হলেন বিজয়াদেবী l নিজের স্বামীর তৈরী করা ঘর বাড়ি, অথচ আজ সেখানে তারই থাকার জায়গা হচ্ছে না l
এমনি করে নানান ঝুট ঝামেলা নিয়ে দিন কাটছিল l একদিন অফিস থেকে ফিরে অতনু মাকে ডেকে বলে, মা খুব সুন্দর একটা বৃদ্ধাশ্রমের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে l তুমি কিন্তু সেখানে থাকলেও পারো l তোমার মত অনেকে থাকে সেখানে l তোমার বয়সীদের সঙ্গে ভালোই লাগবে l
আর এখানে আমরা কখন কোথায় যায়, তোমাকে একা থাকতে হয়, তাছাড়া বাবাই এখন বড় হচ্ছে l ওর পড়াশুনার জন্য একটা ঘর লাগে l বাবা যা রেখে গিয়েছেন তাতে বৃদ্ধাশ্রমের ডোনেশনটা হয়ে যাবে l মাসের টাকাটা না হয় আমি আর বুনু মিলে দেবো l বিজয়া দেবী আকাশ থেকে পড়লেন l কিন্তু বুঝতে পারলেন যে ওরা সব ঠিক করেই ফেলেছে l আর পীড়াপীড়ি করে কোন লাভ হবে না l
মালপত্র মোটামুটি গোছানো হয়ে গিয়েছে ওদের, এ ব্যাপারে এতটুকু ক্লান্তি বোধ করেনি l
নাতি বাবাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলেন তিনি l ছোট্ট বাবাই কিছুই বুঝলো না l
শুধু ঠাকমার মুখের দিকে অবাক হয়ে চেয়ে রইলো l
পরেরদিন সকালে অতনু, পারমিতা, বাবাই সবাই মিলে বিজয়া দেবীকে নিয়ে শহরের অন্য প্রান্তে বৃদ্ধাশ্রমে এসে পৌছালো l মায়ের ঘরের সব কিছু ঠিকঠাক করে দিয়ে আশ্রমের লোকের সঙ্গে কথা বলে মাকে রেখে চলে আসছিলো তারা l হঠাৎ বাবাই বাবাকে জিজ্ঞাসা করলো, বাবা, বাবা ঠাকমা ফিরবে না? অতনু বললো, না বাবা আজ থেকে তোমার ঠাকমা এখানেই থাকবেন l বাবাই চিৎকার করে কেঁদে উঠলো, না না, ঠাকমাকে না নিয়ে আমি যাবো না, বলেই ছুটে গিয়ে বিজয়াদেবীকে জড়িয়ে ধরলো l বিজয়া দেবীও হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলেন l দাদু ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, কাঁদে না দাদু ভাই l তুমি যখন বড় হবে আমি আবার তোমার কাছে ফিরে যাবো l এখন যাও লক্ষী সোনা l বাবা মার কথা শুনে চলো, মন দিয়ে লেখা পড়া করো l বলেই বাবাইকে ছাড়িয়ে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন l বাবাইকে একরকম টানতে টানতেই নিয়ে এলো অতনু আর পারমিতা l কিন্তু বাবাইয়ের কান্না বৃদ্ধাশ্রমের চারপাশে শুধুই প্রতিধনিত হয়ে ফিরে এলো, আমি ঠাকমাকে ছেড়ে যা---বো--না l
ও ঠাকমা তুমি কেন আমাদের সঙ্গে যাবে না, কেন তুমি এমন করছো l ও ঠাকমা, ঠাক---মা---গো--l
-------------
শ্রদ্ধাত্রয়ো যোগ সপ্তদশ অধ্যায়--অনুবাদ তথা গল্প রূপান্তর --বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল
শ্রদ্ধাত্রয়ো যোগ সপ্তদশ অধ্যায় -- অনুবাদ তথা গল্প রূপান্তর -- বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল ------------------------------------------- ...
-
সমুদ্র হৃদয়-- সান্ত্বনা চ্যাটার্জি বিশ্বনাথ হাঁপাতে হাঁপাতে এসে দাঁড়াল মালতী সেনের কিউবিকেলের সামনে । বলতো মিলিদি এবার কাকে প্রধাণ অতিথি করে...
-
সম্পাদকীয়-- আকাশের দিকে তাকালে আমরা এক অনন্তকালের আভাস খুঁজে পাই। এই অনন্তকাল কিন্তু কোথাও থেমে থাকে না, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে চলমা...
-
পরিসমাপ্তি শাবলু শাহাবউদ্দিন ইদ্রিস প্রেম করে। এ কথা কে না জানে । আবাল বৃদ্ধ সবার মুখে মুখে ফিরছে । রইজের ছেলে ইদ্রিস পূর্বপাড়...

