Thursday, 10 November 2022

সম্পাদকীয়--

সম্পাদকীয়--

আকাশের দিকে তাকালে আমরা এক অনন্তকালের আভাস খুঁজে পাই। এই অনন্তকাল কিন্তু কোথাও থেমে থাকে না, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে চলমান। এই জীবন, জীবন মানে, গণ্ডিবদ্ধ এক সীমারেখা। একটা কাল থাকে যখন পৃথিবীর মূল্যবান বস্তু জড়ো করে আমরা ঘর ভরি। ভবিষ্যতের জন্য গুটিয়ে রাখতে চাই অর্থ, কড়ি, ধন-রত্ন। স্বার্থপরতার চরম সীমা লংঘন করে অনেকে শুধুমাত্র ব্যক্তি স্বার্থে আতিশয্যের পাহাড় দাঁড় করাতে চায়--সব কিছুকে টাকা-পয়সার মূল্যে গুনে নিতে চেষ্টা করে। সেখানে নিঃস্বার্থ ভাবনা লেশ মাত্র থাকে না।

এক অর্থ পিপাসু ব্যক্তি লেখককে প্রশ্ন করেন, তুমি দিনভর কি এমন লেখো ! এতে কত পয়সা পাও ? 

লেখক বলেন, যত সামান্য। 

-- তবুও কত বল ? 

-- এই মাসে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা-- 

-- ফুঃ, এই জন্য এত প্রাণপাত ? 

এক অর্বাচীন লেখক বললেন, আমি তো কিছুই পাই না ! 

তাকে কি বলা যায়, অর্থ পিপাসু ব্যক্তি মুখে তখন কোন ভাষা খুঁজে পান না, কেমন তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে ওঠেন।

কিন্তু আমরা লেখক কবিরা জানি যে লেখাতে কতটা মনের খোরাক ভরা থাকে। মন সন্তুষ্টি, মানে জীবনের অর্ধ সন্তষ্টির প্রাপ্তি। লেখা আমাদের নেশা, পেশা নয়, মন স্বাস্থ্যের উপযোগী নিঃস্বার্থ ভাবনার দ্যোতক।

মানুষের ভালো থাকা না থাকার ব্যাপারটা তো সম্পূর্ণ মনের। লেখা মন ভরায়, নিজের জন্যে, অন্যের জন্যে, সেখানে অর্থ নেই, স্বার্থ নেই, সময় মাপের প্রাপ্তি নেই।

এবার ফিরে আসি আসল প্রসঙ্গে, এবার আমাদের গল্পের ব্লগ ও ই- পত্রিকা বর্ণালোক  প্রকাশিত হচ্ছে। বারবার লেখক, পাঠকবর্গ ও সর্বসাধারণকে এই পত্রিকা পড়ে দেখতে অনুরোধ জানাই। ধন্যবাদ--

তাপসকিরণ রায়।



সম্পাদকীয়:


রথের রশিতে টান দিয়ে সেই যে শুরু হয়ে যায় উৎসবের বাদ্যি বেজে ওঠা,এক এক করে  পূজোর যেন মিছিল শুরু হয়ে যায়।দুর্গা পূজা ,লক্ষ্মী পূজা,কালী পূজা পার হতে না হতেই ছট্ পূজার সমারোহে মন মেতে ওঠে। এত উৎসবের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে কখন যেন বেলা ছোট হতে শুরু করে। হেমন্তের বেলা বড়ো স্পর্শকাতর! বড়ো তাড়াতাড়ি বেলা ফুরিয়ে ,ঝুপ করে সন্ধ্যা আসে নেমে। ধূসর কুয়াশায় সন্ধ্যার মুখ দেয় ঢেকে। হালকা হিমের পরশে সন্ধ্যেগুলো বড়ো নির্জন মনে হয়,সর্বত্রএকটা মনকেমনের ছায়া!একাকীত্বের নির্জনতায়  একা একা চোখ মেলে সগগো বাতি পথ দেখায় পূর্ব পুরুষদের। হেমন্তে নূতন ফসল কেটে ঘরে তোলার পালা । নূতন ধানের সঙ্গে নবান্ন উৎসব তো গ্রামীন জীবনের অন্যতম উৎসব।প্রকৃতির সঙ্গে মিলে মিশে থাকা পল্লীজীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে থাকে কত না প্রবাদ ,কত গল্পের অবতারণা হয় দৈনন্দিনের জীবনকে ঘিরেই। সব গল্পই তাই জীবন মুখী,জীবনকে ঘিরেই তার যত উৎসব , আর তাই নিয়েই কত না  গল্প গাথার আয়োজন!–সাবিত্রী দাস।


সম্পাদকীয়:


জীবন কখনও শূন্য থাকে না।একটি উৎসবের কাল শেষ হলে শুরু হয় আরো একটি উদযাপন।মৃন্ময়ী রূপে প্রকৃতি ও সৃষ্টির আরাধনা শেষে ভক্তকুল পরমব্রহ্ম বা নিরাকার সাধনের দুরূহ পথের যাত্রী হবেন এবার তাই শুভ হয় বিজয়া।বাহ্যিক শেষে অন্তরে চোখ।আমাদের শারদীয় উৎসব শেষে আবার শুরু পথ চলা।বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অবশ্যই একটি অর্থনৈতিক দিকও আছে।পূজো শেষ হলে সারা বছরের রোজগার শেষে পরিবারের জন্য নতুন জামা কিনে ঘরে ফিরবেন ঢাকি রা,ছোটো ব্যবসায়ী,মৃতশিল্পীরাও।হেমন্তের শেষে নতুন খড় পড়বে চালে,নতুন করে বীজ বোনা শুরু।আমাদের চলা থামে না।সামনে শীতের উৎসব ও বইমেলা।সৃজন চলতেই থাকে।এভাবেই  নতুন নতুন লেখায় ভরে উঠুক বার্ণালোকের চিরসবুজ পাতাগুলি।সকলকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।উৎসব হোক জীবনের আবহমান।—-জয়িতা ভট্টাচার্য।

2 comments:

  1. সম্পাদকীয় লেখা খুব ভালো লাগলো। চমৎকার।

    ReplyDelete

শ্রদ্ধাত্রয়ো যোগ সপ্তদশ অধ্যায়--অনুবাদ তথা গল্প রূপান্তর --বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল

শ্রদ্ধাত্রয়ো যোগ  সপ্তদশ অধ্যায় -- অনুবাদ তথা গল্প রূপান্তর -- বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল  ------------------------------------------- ...