ফেরা--
রবীন বসু
অনেক ঝগড়া মারামারি তাচ্ছিল্য কটুকথা আর চোখের জলের পর সমীর ও রূপসার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। আদালত বলে দিল, এক বছর আপনারা সেপারেশনে থাকবেন। তারপর যদি মনে করেন সম্ভব না একসাথে থাকা, তখন অ্যালিমনি ধার্য করে পার্মানেন্ট ডিভোর্স দেবে আদালত।
শেষ দেখা আলীপুর কোর্ট চত্বরে। তারপর রূপসা বাপের বাড়ির পথ ধরেছিল। যাবার সময় একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখেছিল অবশ্য। আর তাতেই সমীরের সমস্যা। তার মনে হল, তাড়াতাড়ি করে সে কী ভুল সিদ্ধান্ত নিল! ঘাড় ঘুরিয়ে যখন দেখছিল, ওর চোখে জল তো ছিল, তার সঙ্গে আর কী ছিল সেটা আজও বুঝে উঠতে পারেনি।
এখন এগারো মাস কেটে গেছে। না ফোন, না মেসেজ। হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটও হয়নি। অফিসের যে মেয়েটিকে জড়িয়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি, সেই ঈশিতা এখন বিয়ে করে হনিমুনে গেছে গোয়াতে। সমীর প্রথমে ভালোবাসা ভেবেছিল। কিন্তু না, প্রমোশনের জন্য সুপারিশ ফাইলে সই হয়ে যেতেই ঈশিতার প্রেম উধাও। ধাঁধাঁ খেয়ে গেল সে। সাথে হতাশা লজ্জা ঘিরে ধরল।
কিন্তু সাথে সাথে একটা কৌতূহল। রূপসা কি অর্ক নামে সেই ছেলেটার সঙ্গে এখন রিলেশনে আছে! ওরা কি সেই কাফেটাতে এখনও বসে! যোগাযোগের সব মাধ্যম তো ও বন্ধ করে দিয়েছে।
ওর এক বন্ধু আছে, তার নম্বর সম্ভবত ফোনে সেভ করা আছে। একবার ফোন করবে? সার্চে গিয়ে নম্বর বের করে ফোন করতে, ওপারে এনগেজড টোন পেল। ঘূর্ণি স্রোতের মতো আবর্ত সৃষ্টি হচ্ছে মনের মধ্যে। সমীর ভাবতে চেষ্টা করল, তাদের ফল্ট কোথায়? কেন তাদের সম্পর্কের এই অবনতি? যে অপবাদ সে ঈশিতাকে দিয়েছিল, সেই একই দোষ তো সেও করেছে। পরকীয়া। সে তো ঠকেছে, ঈশিতা?
এই সব ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফিরছিল। সেলফোনে আলো জ্বলে উঠল। ঈশিতার ফোন, কোথায় তুমি? তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এসো। আমি ফিরে এসেছি।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment