Showing posts with label শাবলু শাহাবউদ্দিন. Show all posts
Showing posts with label শাবলু শাহাবউদ্দিন. Show all posts

Thursday, 3 November 2022

পরিসমাপ্তি--শাবলু শাহাবউদ্দিন


পরিসমাপ্তি 

শাবলু শাহাবউদ্দিন 


ইদ্রিস প্রেম করে। এ কথা কে না জানে । আবাল বৃদ্ধ সবার মুখে মুখে ফিরছে । রইজের ছেলে ইদ্রিস পূর্বপাড়ার হালিম ব্যাপারির বেটিকে খুব ভালোবাসে । তারা রাতবেরাতে ফোনে কথা বলে। দেখা করে। আরো কত কী। আমাদের সমাজ তো বিবিসি । একটা ঘটনা ঘটলে তাকে প্রচার করে জনগণ থেকে জনমতে রূপান্তরিত করা তাদের কাজ।

যাইহোক ইদ্রিসের পরিবার এই প্রেম-প্রীতি কোন মতেই মেনে নিবে না। বিশেষ করে ইদ্রিসের মা। তার এক কথা । ছেলেকে কেটে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিবো । তবুও হালিম ব্যাপারির বেটিকে ঘরে তুলবো না । ছেলেকে অনেক বুঝ দিলো । তাতে কোন কাজ হলো না। নানির বাড়িতে পাঠিয়ে দিলো । তাতে আরো মুস্কিল হলো। রোজ রাতে নানির বাড়ি থেকে এসে প্রেমিকার সাথে দেখা করে আবার ভোর রাতে ফিরে যায় । এভাবে একদিন তো আটকিয়ে গেলো । এ কথা লোকে জানা জানি হয়ে গেলে মেয়ের বাপের সম্মান যাবে । তাই মেয়ের বাপ হালিম ব্যাপারি খুব সাবধানে ইদ্রিসের বাসায় খবর দিলো। ইদ্রিসের বড় ভাই এসে গোপনে ইদ্রিসকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেলো। লোকে বলে বাতাসেরও কান আছে । এ কথাও কয়েক দিন পরে মানুষের মুখে মুখে ফিরতে লাগলো । অবশেষে মেয়ের বাপ ছেলের বাড়িতে ঘটক পাঠালো । তাতেই ঘটলো আরো যত বিপত্তি । ইদ্রিসের মা এবার মেয়ের সন্ধান করতে লাগলো। ইদ্রিসের বিয়ে দিয়ে দিবে । 

ইদ্রিস ছুটে আসলো আমার কাছে । কাকা তুমি একটা কিছু করো।

আমি আর কী করবো? অবশেষে ইদ্রিসকে হুকুম দিলাম । বিয়ে করে ফ্যাল । বাকিটা আমি দেখবো । ভয়ের কিছুই নেই। পরিবারের কেউ যদি না মানে । তাতে কোন সমস্যা নেই। আমি আছি তোদের পাশে। 

কথাটি কেমন করে যেন চলে গেলো ইদ্রিসের মায়ের কাছে । ইদ্রিসের মা আমাকে সাইজ করার জন্য চলে গেলো কবিরাজের কাছে । কবিরাজ টাকা নিয়ে বিভিন্ন গাছের কিছু বাকল চেঁছে ধরিয়ে দিলো ইদ্রিসের মায়ের হাতে। এই গাছের বাকলে কী আর হবে? সোজাসুজি আমার কাছে চলে আসলো। ইদ্রিসের মা আমার কাছে এসে হাতে পায়ে জড়িয়ে ধরলো । আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম । আমাকে কী করতে হবে?

ইদ্রিসের মা আমাকে বললো, তেমন কিছু না । আমার হাতের এই পুঁটলিটা গোরস্থানে গিয়ে পাশাপাশি নতুন দুইটি কবরের মাঝে পুঁতে রেখে আসতে হবে। ঠিক সন্ধ্যার পরে। এমন একটা নিষ্ঠুর কাজের দায়িত্ব আমার ঘাড়ে এসে পড়লো যা কোন জীবিত মানুষের পক্ষে করা কখনো সম্ভব না ।  অনেক শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে আমাকে ঠিক সন্ধ্যার সময় পাঠিয়ে দেওয়া হলো গোরস্থানের ভিতরে । আমি যা করার তাই করলাম । গোরস্থান থেকে বাড়িতে ফিরে এসে দেখি ইদ্রিস বাড়িতে নেই। এদিকে সেদিকে খবর পাঠানো হলো। কোন খোঁজ খবর পাওয়া গেলো না । ঠিক রাত এগারোটার সময় আমার ফোনে একটা কল এলো । কাকা বিয়ে করে ফেলছি। আমি হতবাক । সবকিছুর পরিসমাপ্তি ঘটে গেলো ।

শ্রদ্ধাত্রয়ো যোগ সপ্তদশ অধ্যায়--অনুবাদ তথা গল্প রূপান্তর --বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল

শ্রদ্ধাত্রয়ো যোগ  সপ্তদশ অধ্যায় -- অনুবাদ তথা গল্প রূপান্তর -- বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল  ------------------------------------------- ...