Tuesday, 8 November 2022

ভরসার দিনে -- অদিতি ঘটক


ভরসার দিনে --

অদিতি ঘটক


স্কুল থেকে বেরিয়ে একটু এগোতেই চড়বর করে বড় বড় ফোঁটায় হঠাৎ বৃষ্টি। ছাতাতেও এই বৃষ্টি আটকানো অসম্ভব তার মধ্যে উলোট পালোট হাওয়া। অসময়ের বৃষ্টি। রিক্তা সামনেই একটা বন্ধ দোকানের শেডের নিচে দাঁড়ালো। এলোমেলো ছাঁটে বেশ ভিজে গেছে। 

ছাতা বন্ধ করতে করতে আরো একজন এসে দাঁড়ালো। তারও জামা প্যান্ট একই রকম। হঠাৎই করেই এই তুমুল বৃষ্টিতে রাস্তা প্রায় নিমেষে ভোজ বাজির মতো ফাঁকা হয়ে গেছে। দু পাশের দোকান পাট বন্ধ। এই দুপুরেই যেন সন্ধে ঘনিয়ে এসছে। শুধু মাঝে মাঝে কালো আকাশের গায়ে বিদ্যুতের আঁকিবুকি খেলা আর কড়কড় শব্দ।

আজকের সাথে সেদিনের কত মিল। সেদিনও আজকের মতোই আকাশ কালো, সেদিনও স্কুলফেরত। হুড়মুড়িয়ে অঝোর বৃষ্টি। রিক্তা একছুটে বেণী দোলাতে দোলাতে টিনের শেডের তলায় ঢুকে পড়ে। একটা ভেজা  সাদাশার্ট, কালোপ্যান্ট, সাইকেলও ঠিক অমনি হন্তদন্ত হয়ে ঢুকে যায়। দুজনের চোখে মুখে মাথায় বৃষ্টির  ফোঁটা। সদ্য আধ ফোটা বৃষ্টি স্নাত কুঁড়ির মত সৌন্দর্য ঝরে পড়ছে  যৌবনের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো দুজনের দেহ থেকে। আড় চোখে দুজন দুজনকে দেখে। চোখাচোখি হতেই চোখ নামিয়ে নেয়। একটা অজানা শিরশিরে ভালো লাগায় মন ভরে ওঠে। 

একটু পরেই জোরে বিদ্যুৎ চমকায়। তারপরই মেঘের দুন্দুভি নির্ঘোষ। রিক্তা ভয়ে শিউরে ওঠে। সাদাশার্ট সসঙ্কোচে হাত বাড়ায় কিন্তু সম্পূর্ণ প্রসারিত নয়। আঙ্গুলগুলো দ্বিধা, দ্বন্দ্বে, লজ্জায় কুঁকড়ে। 

তারপর কতবার ভিজে পথ শুকোলো  কতবার বর্ষায় উপচানো নদীর জল কমলো। কতবার বৃষ্টিস্নাত গাছ পাতা হারিয়ে রিক্ত হল।

সেদিনের মতোই আজও জোরে বিদ্যুতের চমক। মেঘের দুন্দুভি। ভয়ে শিউরে ওঠা। সেদিনও বাড়ানো হাতটা লজ্জা, দ্বিধা, দ্বন্দ্বে কুঁকড়ে ছিল। 

আজও।

তবুও গ্রন্থিহীন কোনো অদৃশ্য বন্ধন যেন হাওয়ার মতো দুজনের মাঝে বয়ে যায়। যা দেখা যায় না। শুধু অনুভব করা যায়।

সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

শ্রদ্ধাত্রয়ো যোগ সপ্তদশ অধ্যায়--অনুবাদ তথা গল্প রূপান্তর --বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল

শ্রদ্ধাত্রয়ো যোগ  সপ্তদশ অধ্যায় -- অনুবাদ তথা গল্প রূপান্তর -- বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল  ------------------------------------------- ...