Tuesday, 8 November 2022

ফিরে পেতে চাই --- শান্তা মিত্র

 

ফিরে পেতে চাই --- 

    শান্তা মিত্র 


ফিরে পেতে চাই সেই সময়কে যেই  সমযে  ছিল না কোন দলাদলি, কথায় কথায় রেষারেষিতে জড়িয়ে পড়া আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ছিল শুধুই  নিছক আনন্দের দিনগুলো আবেগ আর সরলতায় ভরা শৈশব। সেই সব  স্মৃতিতে ভর করে আজও অনেক  প্রতিভা ও শিল্পীর সৃষ্টি হয়। সেই সব সৃষ্টি ও তার শিল্পীরা আশেপাশে ছড়িয়ে রয়েছে যাদের আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি। কিন্তু  আজ আমাদের আগামী প্রজন্ম স্মার্ট ফোন  নামক এক যন্ত্র তে আবদ্ধ হয়ে। আছে  তাদের পুরো পৃথিবীটাই এখন এটা হয়ে গেছে। এটা কে তারা জন্ম থেকে দেখছে আর এই ফোনকে আঁকড়ে ধরেই বড় হচ্ছে ,তাদের খাওয়া থেকে শোওয়া অবধি সবটাই শুধুই মোবাইল ফোনকে সঙ্গে নিয়ে চলে । তাদের বড় হওয়া স্বপ্ন দেখা তাদের ভবিষ্যৎ এর সবকিছুই নির্ভর করছে এই ফোন ঘিরেই। তাদের  আনন্দ করার জায়গাটাও এখন এটাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে মোবাইল ছাড়া তারা এক মুহূর্ত থাকতে পারেনা, মোবাইলের জন্য তারা সব করতে পারে। আজ এমন দিন এসেছে যে এই মোবাইলের জন্য তারা জীবনকেও শেষ করতে দ্বিধাবোধ করে না। আবার অনেকেই এর জন্য ভুল পথেও চলে যাচ্ছে। আজকাল একটা বাচ্চা জন্মেই স্মার্টফোন এ তারা খুব তাড়াতাড়ি অনেকটা স্মার্ট ও বড় হয়ে যাচ্ছে। এই ফোন নিয়েই  যেন তাদের জীবনের সমস্ত কিছু  চাওয়া পাওয়া দেনা পাওনা  সব মিটে যায়। আজ এর জন্য খেলাধুলাকে ভুলে গেছে এবং আত্মীয় পরিজন বন্ধু-বান্ধব সব কিছু থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছে আর এটাতেই তারা নিজেদেরকে খুব সুখী মনে করে। এর কারণে তাদের যে কত ক্ষতি হচ্ছে তা তো তারা বুঝতেই পারছে না। আর আমরা বাবা মা এরা বুঝেও  বুঝিনা করেই তাদের সর্বনাশের দিকেই ঠেলে দিচ্ছি প্রতিনিয়ত বাচ্ছাদেরকে। আমরা বাবা-মা রা ভুলে তো ভুলেই গেছি তাদের অন্যভাবে বড় করতে। খুব সহজ হয়ে  গেছে এই কাজ টা আমাদের কাছে এখন খালি ফোনটা ধরিয়ে দাও ব্যস কেল্লাফতে। আর এটাকে হাতে দেওয়া মানেই বাচ্চাদেরকে সমস্ত কিছু পাইয়ে দেওয়া কষ্ট করতে হয়না আর কি। খুব সহজ হয়ে গেছে এখন বাচ্চাদের বড় করাটা। এই প্রজন্মটা সমস্ত কিছু হারিয়ে ফেলেছে আমরা যেগুলো পেয়েছি তারা তার কিছুই পেলনা। আজ একটা বাচ্চার কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে  নিলে সে খুব কষ্ট পায় কাঁদে জেদ করে । আর সে যখন আরেকটু বড় হয় তখন তাদের সেই জেদ এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, অনেক বাচ্চারা অভিমানে কষ্টে সুইসাইড পর্যন্ত করে ফেলে।  তবে সকলেই সমান হয় না তাদের  মধ্যে কেউ কেউ এই মোবাইল নিয়েই  জীবনে অনেক দূর এগিয়ে গেছে আর যায় ।আর ভালো একটা ভবিষ্যৎ তৈরি  করে ফেলে।  আমরা আমাদের ছোটবেলায় কেমন ভাবে কাটিয়েছি কেমন ভাবে  মাঠে ঘাটে খেলা করেছি এর তার বাগানের ফল ফুল চুরি করেছি কত আনন্দ করেছি আবার সবকিছুর পর  বাড়িতে এসে বই নিয়ে বসেছি। লুকিয়ে সিনেমা  দেখা আড্ডা মারা গল্প করা মধ্যে যে কি মজা ছিল সেটা আমরাই জানি। এইসব কিছুর পিছনে একটা মধুর শৈশব লুকিয়ে ছিল । আর সেই বড় হওয়ার পিছনের যে আনন্দ ছিল সেসব  তারা পায় না, এগুলো ওদের কাছে অচেনা অজানাই  রয়ে গেল । কিছু বাচ্চা তো ফোন এডিক্টেড হয়ে  এক একটা  ভয়ংকর মানসিক রোগীতে পরিণত  হয়ে গেছে ।এর থেকে ওদেরকে  আমাদের কেই উদ্ধার করতে হবে।

আর এই প্রজন্মদের কে এই  অসুখ ও ধ্বংসের থেকে রক্ষা করতে হবে আগামী ভবিষ্যতের জন্য । তার জন্য এগিয়ে আসতে হবে আমাদের মত বাবা মা দেরকেই ওদের একটা সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপহার দেওয়ার জন্য । তবেই আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা সত্যিকারের বাবা-মা হতে পারব । তখনই আস্তে আস্তে পৃথিবীটা আগের মত সুন্দর ও উন্নত হবে। আর  প্রতিহিংসাপরায়নতা  মানুষে মানুষে যুদ্ধ এসব শেষ হয়ে গিয়ে আর একটা নতুন পৃথিবী গড়ে উঠবে থাকবে শুধুই  ভালোবাসা ভরা মিষ্টি জীবন। আসুন আমরা হাতে হাত ধরে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই ফিরিয়ে দিই ওদের সেই হারিয়ে যাওয়া ছেলেবেলাকে।

সমাপ্ত 

No comments:

Post a Comment

শ্রদ্ধাত্রয়ো যোগ সপ্তদশ অধ্যায়--অনুবাদ তথা গল্প রূপান্তর --বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল

শ্রদ্ধাত্রয়ো যোগ  সপ্তদশ অধ্যায় -- অনুবাদ তথা গল্প রূপান্তর -- বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল  ------------------------------------------- ...