জয়িতা ভট্টাচার্য
পর্ণা দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে হাঁটছে।রাস্তা পেরিয়ে ফুটপাত, মিনিবাস ট্যাক্সি আর উবের,অফিস ফেরত এবং হকার সব পেরিয়ে একমনে হাঁটছে।মাথার মধ্যে তুফান চলছে।কান দিয়ে গরম হল্কা আর মাঝে মাঝেই চোখ মুছে নিচ্ছে সে। তিন রাত ঘুম নেই ,খাওয়া নেই,তবু পুরো দিন অফিসে।ফাইলের পর ফাইল,কর্পোরেট সংস্থার কোম্পানি সেক্রেটারি সে।দম ফেলার সময় নেই।তবু, মাথার ভেতর ঘূণপোকা। মানুষ প্রেমে পড়লে ভিখারি।কোনো ডিগ্রি কোনো স্মার্টনেস কাজে লাগে না।নিজের ওপর ঘৃণা হচ্ছে তার।কেন সে এইভাবে নিজের দিন নষ্ট করছে।অংশু।তার প্রেমিক।গত পাঁচ বছর তার সঙ্গে সম্পর্ক।কখনও আদরে পাগল করে দেয় আর মাঝে মাঝে যেন চিনতেই পারে না।অংশু তার স্বামী নয়।তার স্বামী অমিতেশ।মরে গেছে সে।মরে গেছে কথাটাই যুতসই।বিয়ের তিনবছর পর শরীরি আহ্লাদ ভেঙে খাট থেকে মাটিতে পা রেখে দেখেছিল একটি মাতাল ও চরিত্রহীন লোক।মদ জুয়া রেস হেন নেশা নেই সে করে না।বিবাহসূত্রে পাওয়া বনেদি বংশ ,একটি ছেলে আর কিছু লৌকিকতা ভারবাহী গাধার মতো টেনে নিয়ে চলেছে।হাজার একটা সমস্যার মধ্যে একদিন আচমকাই অংশু জীবনে।তার ছায়া তার আনন্দ। একটু বেশি আদিখ্যেতা করে ফেলেছে পর্ণা।রাগে দুঃখে হতাশায় পর্ণা গাড়িতে ওঠে।অনেক সন্ধ্যা অবধি বসে আছে স্থির হয়ে সে।একদৃষ্টে দেখছে জল।কমপ্লেক্সের পেছনের পুল,বাগান,বড় বড় গাছ।একটা ডাল ভেঙে জলে ফেলে দেয়।আকাশে ফুটফুটে সদ্য মামা হয়ে যাওয়া চাঁদ।পেরেছে পর্ণা।পারতে তাকে হবেই।আর নয় এই অবমাননা।
জলে ভেসে ভেসে ভাঙা ডাল চলে যাচ্ছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই।পর্ণা হাল্কা নিঃশ্বাস ফেলে।
লিফ্টের দরজা খুলে ঘরে এসে চালিয়ে দেয় এসিটা।
ফোনের সুরেলা গলা শুনে হাল্কা চালে তুলে নেয় মোবাইল।
ফোন নয় ওয়াটস্যাপ।
চা বসাও তাড়াতাড়ি।পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঢুকছি পার্ক করে।
কোথায় যেন কারা ঝাড়লন্ঠন জ্বেলে দিচ্ছে।
দরজা খুলবে না আর পর্ণা অংশুকে কিছুতেই।
পাখির ডাক,দরজাটা মেলে ধরছে ডানা পর্ণা আনলক করে।

No comments:
Post a Comment