Saturday, 5 November 2022

বাঞ্ছারাম ও ননীর মা--শংকর ব্রহ্ম



বাঞ্ছারাম ও ননীর মা--
শংকর ব্রহ্ম
-----------------------------------

         সান্ধ্য ভ্রমণ সেরে ক্লান্ত হয়ে চায়ের দোকানে ঢুকে বেঞ্চিতে বসতে বসতে বললাম, "একটু জল খাওয়া তো বাবা বাঞ্ছারাম। গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে!"
           বাঞ্ছারাম এক গ্লাস জল এনে দিয়ে বলল, "লিজিয়ে, খাইয়ে! জল খাইয়ে!"
          গ্লাসটা ওর হাত বাড়িয়ে নিতে নিতে দেখলাম, ওর চোখে মুখি ফিচকে হাসি । দেখে অবাক হয়ে জানতে চাইল, “ব্যপার কি? হাসির কি হল আবার?”
        “বাঙালী লোগ খানা ভি খাতা হ্যায়, পানি ভি খাতা হ্যায়!” বলেই ব্যাটা ফ্যাক ফ্যাক করে হাসতে লাগলো।
          ননীর মা ঠিক ঐ সময় ননীকে কোচিং ক্লাসে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল। আমাকে সে বেশ ভক্তি শ্রদ্ধা করে। তাই, আমার সঙ্গে বাঞ্ছারামের ছ্যবলামী করা দেখে পিত্তি জ্বলে গেল তার। সে বলল, “কেন রে মুখপোড়া! বাঙালীরাই খালি জল খাতা হায়? খোট্টারা নেই খাতা - জল ছাড়াই বেঁচে থাকতা হায়!”
          বাঞ্ছারাম তাকে বুঝিয়ে বলল, “পানি খায়া নেহি যাতা, পিয়া যাতা হ্যায়!”
“অ, তাই বুঝি! তা খাওয়া আর পিয়ার মধ্যে তফাৎ কেয়া হায় ভাই? বুঝাকে বোল দেও!”
        তফাৎ যে আসলে কি সেটা সে বেচারাও জানতো না, তাই উত্তর খুঁজে না পেয়ে কিছুক্ষণ তোতলাতে তোতলাতে শেষে বলল, “খানেকা মৎলব চাবা চাবাকে খানা। পীনে কি চিজ্ চাবায়া নেহি খাতা!”
           ননীর মা তা শুনে বলল, “বুঝলাম। না চিবিয়ে গিলে খাওয়াকে পিনা বলে। তা ভাই ট্যাবলেট, মানে দাওয়াইও তো জলের সাথে গিলকে খাতা হায়। তুমলোগ দাওয়াই খাতা হায় না পিতা হায়?”
           কিছুটা হকচকিয়ে গিয়ে, মাথা মাথা চুলকে বাঞ্ছারাম বলল, “দাওয়াই লেতা হ্যায়!”
           এবার ননীর মায়ের হাসি চাপার পালা। বলল, “বাঃ, প্রথমে খাতা হায়, তারপর পিতা হায়, শেষে কিনা লেতা হায়। হায় হায় হায়, আর কত রঙ্গ দেখায় গা ভাইয়া? ...... আচ্ছা, ঘি, মাখন, এগুলো তো’ চিবাতা নেহি, তাহলে এগুলো কি খাতা না পিতা, নাকি লেতা?”
              বাঞ্ছারাম নার্ভাস হয়ে মনে মনে হিসেব করে বলল, “চিবাতা নেহি! ইসকা মাতলাব পিতা হ্যায়!”
           ননীর মা দু হাতের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলল, “ তুম ঘণ্টা জানতা হায়, সামঝা? এগুলো সবই খাতা হায়। ঐ গানটা শুনা নেহি , ‘ম্যায় নেহি মাখন খায়ো’। তুম শুনা নেহি এ গানা?”
            বাঞ্ছারাম হার স্বীকার করে নিয়ে ঘাড় নাড়িয়ে বলল, “জী!”
        “সুতরাং হাম জল চিবাকে খায়গা না গিলকে খায়গা, সেটা হামারা মর্জি। তুমহারা আপত্তি করনে কা কোন হক নেহি হ্যায়, সামঝা!”
           " জী সামঝা " বলে বাঞ্চারাম হার স্বীকার করে নিয়ে, মুখ কালো করে দোকানের ভিতর ঢুকে পড়ল।
             ননীর মাও ননীকে কোচিং ক্লাসে পৌঁছে দিতে চলে গেল।
              আমিও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। জল খেয়ে নিয়ে, এককাপ চায়ের অর্ডার দিলাম।

-----------------------------------------------------

No comments:

Post a Comment

শ্রদ্ধাত্রয়ো যোগ সপ্তদশ অধ্যায়--অনুবাদ তথা গল্প রূপান্তর --বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল

শ্রদ্ধাত্রয়ো যোগ  সপ্তদশ অধ্যায় -- অনুবাদ তথা গল্প রূপান্তর -- বীরেন্দ্রনাথ মন্ডল  ------------------------------------------- ...