একটি পাথরের আত্মকথা--
অরুণ চট্টোপাধ্যায়
বেশ কয়েক হাজার ফুট ওপরে আমি ছিলাম বেশ দিব্বি। আমার পেছনেই কেবল বাধা ছিল পাহাড়ের। বাকি তিনদিক খোলা। সারাদিন আমি বসে বসে সব দেখতাম। নীল আকাশে সাদা মেঘ ভাসছে আর আমায় হাত নেড়ে নেড়ে বলছে, আয় যাবি আমার সঙ্গে?
আমিই হেসে বলতাম, আমি তো যেতে পারি না। শুধু বসে থাকা আমার কাজ। তোমার কাজ উড়ে বেড়ান। বা কখনও বৃষ্টি হয়ে পড়া। তোমার কাজ তুমি কর আমার কাজ আমি।
আমার চারপাশে যেন সবুজের মেলা। আমার বেশ ভাল লাগে। এত সবুজ—দেখে দেখে চোখ যেন জুড়িয়ে যায়। মাঝে মাঝে সেই সবুজে থাকে কিছু রঙের মেলাও। আমার ঠিক পাশ দিয়ে একটা ঝরণা বয়ে যাচ্ছে। আমাকে ঘিরে পাক খেয়ে খেয়ে। সুন্দর কলকল করে হেসে হেসে। সারাদিন আমার এই গান শুনেই কেটে যেত।
কখনও প্রবল বৃষ্টি ঝরত মাথার ওপর দিয়ে। আমার সারা গায়ে যা ধুলো ময়লা পড়ত তা সব ধুয়ে যেত। বৃষ্টি থেমে গেলে আমার পিঠ চকচক করত আর আকাশের ছবি দিব্বি ফুটে উঠত।
একদিন তোমাদের দরকার হল। এই ঝরণার নিচে দিয়ে টানেল করার।
তোমারা ডিনামাইট চালিয়ে আমাকে উড়িয়ে দিলে। গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে এখন আমি ছড়িয়ে পড়েছি চারিদিকে। আমার এক একটা টুকরো দিয়ে তোমরা গড়ছ ইমারত। তোমাদের সভ্যতার সোপান। কিন্তু এই টুকরোগুলো সব প্রতিহিংসায় ভরা।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment