সম্পর্ক --
ডঃ সুজিত কুমার বিশ্বাস
-শুভ, -এই শুভ এদিকে আয় বাবা !
- হ্যাঁ বাবা বলো।
প্রমথেশ অবাক হয় বাবা ও ছেলের সংলাপ শুনে। যেন কত চেনা, কত দিনের কত পরিচিত সম্পর্ক। কিন্তু সে জানে শুভ বিকাশ বাবুর দত্তকপুত্র। যেদিন বিকাশ বাবু শুভকে পুত্র হিসাবে গ্রহণ করেন সেদিন প্রমথেশ হাজির ছিল সেখানে। আজ শুভ আর বিকাশবাবু সম্পর্কের বন্ধন তাকে অবাক করে দেয়। আর প্রমথেশ বাবু তার নিজের ছেলের কথা ভাবতে থাকেন। তার ছেলে এমবিবিএস পড়তে এখন ব্যাঙ্গালোর। শুধু মাঝে মাঝে কথা হয়। দেখা হয় ভিডিয়ো কলে, সাক্ষাৎ হয় এভাবেই।কিন্তু দেখা হয় না অনেকদিন। আজ এদের দুজনের সম্পর্ক দেখে নিজেকে অবাক হতে হয় প্রমথেশ বাবুর।
- ছেলে তো বড় হলো এবার একটা বিয়েথা তো দিতে হয়! প্রমথেশ জিজ্ঞাসা করে।
- সেটাই। আমি যে ভাবছি না, তা কিন্তু নয়। ভাবছি। কিন্তু হয়ে উঠছে না। তাছাড়া শুভও তেমন আগ্রহ দেখায় না।
শুভ ভালো ছেলে। পড়াশোনা করে। এখন বাবার প্রতিষ্ঠিত স্কুলেই কাজ করে সে। কিন্তু কোনো মেয়ের সাথেই সে যোগাযোগ করতে পারেনি। আজকের দিনে এটা ভেবে অবাক হতে হয়।
- আসলে কি জানো প্রমথেশ! আমার কোথায় একটা ঘাটতি আছে। একটা হীনমন্যতা কাজ করে এতদিন পর। কে কীভাবে নেবে এই ভেবে? এতদিন ছোটো ছিল সমস্যা হয়নি। কিন্তু-
- কিন্তু নয়! তোমাদের বন্ধন তো ভালো। দেখি আমিই একবার চেষ্টা করে।
- দেখো।
- ভাইটাকেও তো বিয়ে দিতে পারলাম না একই কারণে।
- মানে?
- কী কারণ?
- আমার বাবা ওকে দত্তক নিয়েছিলেন। ও তো আমার মায়ের পেটের ভাই নয়।
- এই তথ্যটা আমি এতদিনে জানতাম না।কিন্তু দুই ভাইয়ের বয়সের ব্যবধান দেখে একটা সন্দেহ যে প্রমথেশের হয়নি, তা কন্তু নয়।
- আসলে বলিনি। তাছাড়া আগেকার অনেকেই জানে বিষয়টি।
প্রমথেশ চুপ করে থাকে।
সমাপ্ত
No comments:
Post a Comment