নীলমাধব প্রামাণিক
স্টেশনে নেমেই তাড়াহুড়ো করে বাড়িতে রওনা দিতে চাইছিল দিপু ।
এমন সময়ে একটা আর্তিতে, সহসা থমকে গেল সে । একজন বৃদ্ধা তাকে ডাকছে ।পথের ভিখারি ভেবে তাকে কিছু টাকা দিতে চাইলে বৃদ্ধা বললেন ,
আমি ভিখারি নয় বাবা ।
তাহলে?
বলছিলাম কি বাবা , এই রাতটুকু যদি থাকার মতো একটা কিছু ব্যবস্থা করে দাও । বড় বিপদে পড়েই একথা বলছি বাবা । কথা দিচ্ছি কাল সকালেই আমি চলে যাব ।তাঁর সঙ্গে কথা বলে
যতদূর জানা গেল , ডাক্তার দেখানোর নাম করেই এই ভর সন্ধ্যায় অসুস্থ মাকে সোনার পুর স্টেশনে বসিয়ে রেখে পিঠটান দিয়েছে তাঁরই
গুণধর ছেলে । অগত্যা কি আর করা । তাকে নিয়েই বাড়িতে রওনা দিলো দিপু ।
সকালে বাড়ির সবাই ঘুম থেকে ওঠার আগেই তিনি কাউকে কিছু না বলে চলে গেছেন ।তবে তার একটা খানা চিঠি পাওয়া গেছে ।
তাতে লেখা যা আছে ---
এখানে এসে যা বুঝলাম ।তুমি আমারই পরিত্যক্ত সন্তান । একদিন আমিই তোমাকে পরিত্যাগ করেছিলাম নিজের সম্মান বাঁচাতে । আজ এক সন্তান আমাকে ত্যাগ করেছে ।আর তুমি আমার মান রক্ষা করেছ ।আজ তোমার কাছে নিজেকে ভীষণ ছোট মনে হচ্ছে ।সত্যিই আমি অপরাধী ।
ক্ষমার অযোগ্য । তোমাকে যে আবার কখনো ফিরে পাবো , এ আশাও ছিলোনা । যাইহোক ভগবানের অশেষ করুণায় তোমাকে আবার ফিরে পেলাম । কিন্তু আমার এমন পোড়া কপাল , তোমাকে পেয়েও আবার হারাতে হচ্ছে ।
তবে এক সময়ে ইচ্ছে করেই ত্যাগ করে ছিলাম ।আর আজ তোমাকে ছেড়ে যেতে মন চাইছে না ।
তবুও যেতে আমাকে হবেই । যাবার সময় বলি , আমার আর কোন দুঃখ নেই । যদি সম্ভব হয় আমাকে ক্ষমা কোরো । আমি চললাম এক অজানা অনন্তের পথে ----
ইতি -
তোমার মা